আহত সাংবাদিক হোসাইন আলী। আজ শনিবার দুপুরে গাজীপুরে পুলিশ বক্সে
গাজীপুরের চৌরাস্তা এলাকায় একটি পুলিশ বক্সে ঢুকে এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার সাংবাদিক হোসাইন আলী, যিনি স্টার নিউজের গাজীপুর প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। আটক ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ জুয়েল। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, তিনি ছিনতাই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটি শেষে বিভিন্ন শিল্পকারখানার শ্রমিকেরা কর্মস্থলে ফিরছিলেন। এ সংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহে শনিবার সকাল থেকেই গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় অবস্থান করছিলেন সাংবাদিক হোসাইন আলী। তিনি ঘটনাস্থল থেকে একটি লাইভ সম্প্রচারও করেন।
লাইভ সম্প্রচার শেষ হওয়ার পর দুপুরে তিনি চৌরাস্তা পুলিশ বক্সে বসে অফিসের কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ এক যুবক সেখানে প্রবেশ করে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ঘটনার সময় পুলিশ বক্সে অন্য কেউ উপস্থিত ছিলেন না। সাংবাদিকের চিৎকার শুনে এক পুলিশ সদস্য দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয় জনতার সহায়তায় হামলাকারীকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করা হয়।
হোসাইন আলী জানান, সকাল থেকেই তিনি চৌরাস্তা এলাকায় সংবাদ সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। হামলাকারী কয়েকবার এসে তাঁর নাম জানতে চাইলেও কাজের চাপে তিনি তার সঙ্গে কথা বলতে পারেননি। পরে পুলিশ বক্সে বসে অফিসের কাজ করার সময় ওই ব্যক্তি আকস্মিকভাবে তাঁর ওপর হামলা চালায়। তিনি জানান, এর আগে কখনো ওই ব্যক্তিকে দেখেননি এবং তাঁর সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত পরিচয় বা বিরোধ ছিল না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের আনাগোনা রয়েছে। তাঁদের কেউ এই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, এলাকায় সংবাদকর্মীরা কাজ করতে এলে কিছু অপরাধী চক্র প্রায়ই বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে।
প্রকাশ্যে পুলিশ বক্সে ঢুকে একজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় গাজীপুরের পেশাদার সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁরা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে হামলার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশীদ বলেন, “প্রাথমিক অনুসন্ধানে আটক ব্যক্তিকে কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন বলে মনে হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর মা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।”