গাজীপুর, প্রতিনিধি: পরিবেশ সংরক্ষণ ও ‘গ্রিন ক্যাম্পাস’ গড়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাউবি) ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি একটি নিম গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
এ সময় বাউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান একটি বারোমাসি আমড়া গাছের চারা রোপণ করেন। এছাড়া প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান ও প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম পৃথকভাবে গাছের চারা রোপণ করেন।
উদ্বোধন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় কনফারেন্স হলে ‘প্রতিটি চারা হোক গ্রিন ক্যাম্পাসের নতুন স্বপ্নের সূচনা’ স্লোগানকে সামনে রেখে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম. মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবাইকে নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২টি আঞ্চলিক কেন্দ্র ও ৬৩টি উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রে একযোগে এ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং সরকারের ঘোষিত ‘গ্রিন ক্যাম্পাস’ বাস্তবায়নে এ উদ্যোগ আগামী পাঁচ বছর অব্যাহত থাকবে। বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমকে একটি চলমান সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকারের ঘোষিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ জাতীয় উদ্যোগ।
তিনি বলেন, “এই কর্মসূচি শুধু সংখ্যাগত লক্ষ্য অর্জনের বিষয় নয়; এটি একটি সবুজ, জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই বাংলাদেশ বিনির্মাণের অঙ্গীকার।”
উপাচার্য আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞানচর্চার প্রতিষ্ঠান নয়, বরং মূল্যবোধ, সচেতনতা ও সামাজিক নেতৃত্ব তৈরির কেন্দ্র। তাই পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন চর্চায় বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
গাছ লাগানোর পাশাপাশি প্রতিটি গাছের যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “একটি গাছ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে না, ভবিষ্যতের আশা ও জীবনও রক্ষা করে।”
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রত্যেককে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ এবং তার পরিচর্যার দায়িত্ব গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিবেশ সংরক্ষণে একটি অনুকরণীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান এবং প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে উপাচার্যের সহধর্মিণী ড. আলো আরজুমান বানু বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে একটি কবিতা আবৃত্তি করে উপস্থিতদের মুগ্ধ করেন।
বৃক্ষরোপণ কমিটির আহ্বায়ক ও কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন স্কুলের ডিন স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) টি. এম. আহমেদ হুসেইন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, পরিচালক, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম জুমের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।